আরবি ভাষা পরিচিতি

আরবি ভাষা পরিচিতি

আরবি মূলত আরবদেশের ভাষা। এটি প্রাচীন ভাষাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই আরবি ভাষা ব্যবহৃত হয়। যেমন : সৌদিআরব, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়া, জর্দান, লেবানন এবং মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও বেশ কয়েকটি দেশে এ ভাষাভাষীর সংখ্যা অনেক বেশি। 

বর্তমানে পৃথিবীর ২৮টি দেশের সরকারি ভাষা আরবি। এই ভাষায় বড় হাতের ও ছোট হাতের অক্ষর বলে কিছু নেই। আরবি লিপি ডান থেকে বাম দিকে লেখা হয়। ২৯টি বর্ণ বা হরফের এই লিপিতে কেবল ব্যঞ্জন ও দীর্ঘ স্বরধ্বনি নির্দেশ করা হয়। 

আরবি লিপি এক অক্ষরের সাথে আরেক অক্ষর পেঁচিয়ে লেখা হয়। প্রতিটি বর্ণের একাধিক রূপ আছে, যে রূপগুলি বর্ণটি, শব্দের শুরুতে, মাঝে, শেষে না-কি আলাদাভাবে অবস্থিত, তার ওপর নির্ভর করে। কতগুলি বর্ণ একই মূল রূপের উপর ভিত্তি করে লেখা হয় এবং বিন্দুর সংখ্যা দিয়ে একে অপরের থেকে পৃথক করা হয়।

আরবি ভাষা পবিত্র কোরআনের ভাষা। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশে লাখ লাখ মুসলমান আরবি ভাষায় কথা বলে থাকে। এটি সেমিটীয় ভাষা পরিবারের জীবন্ত সদস্যগুলোর অন্যতম। ইসলাম আবির্ভাবের ঠিক আগের যুগে আরব উপদ্বীপে আরবি ভাষার উৎপত্তি ঘটে। প্রাচীন কবিদের কবিতা কিংবা সাহিত্যে আরবি ভাষার ব্যবহার ছিল লক্ষ করার মতো। 

মধ্যযুগে আরবি গণিত, বিজ্ঞান ও দর্শন শাস্ত্রের প্রধান বাহক ভাষা ছিল। বিশ্বের বহু ভাষা আরবি থেকে শব্দ ধার করেছে। আবার অনেক ভাষা বিজ্ঞানী আছেন এখনও আরবি ভাষা নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলিতেও আরবি ভাষায় পাঠদান করানো হয়।

আরবি ভাষা বর্তমান বিশ্বের আলজেরিয়া, বাহরাইন, চাদ, কমোরোস, জিবুতি, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মরক্কো, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিশিয়া, সংয়ুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় ভাষা। এসব আরব দেশ ছাড়াও তুর্কি, মালয়েশিয়া, সেনেগালসহ ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আরবি ভাষার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

১৯৭৪ সালে আরবি ভাষাকে জাতিসংঘের ষষ্ঠ সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে প্রায় ২৪৬ মিলিয়ন মানুষ আরবি ভাষার ভাষাভাষী। ইংরেজি শব্দ Hello বা ‘হ্যালো’-কে আরবি ভাষায় ‘আস্সালামু আলাইকুম’বলে সম্বোধন করে।

ইসলামের প্রচারকেরা ৭ম শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপের সীমানা ছাড়িয়ে এক বিশাল আরব সাম্রাজ্য গড়তে বেরিয়ে পড়েন এবং প্রথমে দামেস্ক ও পরে বাগদাদে তাঁদের রাজধানী স্থাপন করেন। এসময় ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী এক বিশাল এলাকা জুড়ে আরবি প্রধান প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হত। ভাষাটি বাইজেন্টীয় গ্রিক ভাষা ও ফার্সি ভাষা থেকে ধার নিয়ে এবং নিজস্ব শব্দভাণ্ডার ও ব্যাকরণ পরিবর্তন করে আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

সূত্র : ইন্টারনেট



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ